কলা খাওয়ার উপকারীতা – কলা কখন খাবেন ?

কলা খাওয়ার উপকারিতা - কেনো কলা খাবেন
268 Views

আজকাল মানুষ তাদের স্বাস্থ্যর ব্যপারে বেশ সচেতন । আর কেনোই বা হবে না? পারতপক্ষে আমি সচেতন না হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না । চারিদিকে সবকিছুতে ফরমালিন । রাসায়নিক জিনিসের মিশ্রণে ছেয়ে যাচ্ছে সব। তাতে একটু চোখ কান খোলা রেখে চলাটা খুব বেশি বেমানান নয় । নিজের ভালো সবাইই চায়, আপনিও এর ব্যতিক্রম নন । স্বাস্থ্যর সুরক্ষার ব্যপারে মানুষ যা যা করা দরকার তা করার চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক । কিন্তু কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো হয়তো আমরা জানি কিন্তু মানি না । অথবা আমাদের নজর এড়িয়ে যায় এই বিষয়গুলো । প্রতিদিন ছোট ছোট কিছু বিষয় অনুসরণ করে আমরা নিজেরাই নিজেদের স্বাস্থ্যর বেশ ভালো যত্ন নিতে পারি । গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম প্রতিদিন কেনো আপনার একটি করে সবুজ আপেল খাওয়া উচিত সে ব্যাপারে । আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো – “কলা খাওয়ার উপকারীতা – কেনো কলা খাবেন?” এগুলো নিয়ে ।

আচ্ছা, কলার নাম তো নিশ্চই শুনেছেন, তাই না? কলা খেলে আমরা কিভাবে উপকৃত হতে পারি ? কলার উপকারিতা কি? কলা আমাদের শরীরে কি পরিমাণে ক্যালোরি প্রদান করে থাকে সেটি কি আমরা জানি ? 

স্বাগতম বন্ধুরা, আজকের এই আর্টিকেলে আমি এইসব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো । 

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে – প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলায় যে খাদ্যগুণ আছে তার বিশ্লেষণ নিম্নরূপঃ

পানি (জল) —————— ৭০.১%

আমিষ ———————- ১.২%

ফ্যাট (চর্বি) —————— ০.৩%

খনিজ লবণ ——————- ০.৮%

আঁশ ————————- ০.৪%

শর্করা ———————— ৭.২%

মোট ———————– ১০০.০%।

খনিজ লবণ এবং ভিটামিন

ক্যালসিয়াম———————– ৮৫মি.গ্রা.

ফসফরাস———————— ৫০মি.গ্রা.

আয়রন——————— ০.৬মি.গ্রা.

 ভিটামিন-সি, অল্প 

ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স—– ৮মি.গ্রা.

মোট ক্যালরি———————– ১১৬।

জেনে নিন প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা  –  

আমাদের কেনো প্রতিদিন কলা খেতে হবে? এর উপকারিতাই বা কি ? তাই না? এই প্রশ্ন জাগাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় । চলুন জেনে নেয়া যাক কলার উপকারিতা সম্পর্কে – 

১। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে  –  আমরা অনেকেই সকালের নাস্তার সাথে কলা খেয়ে থাকি । কিন্তু অনেকেই জানি না যে পাকা কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে । পাকা কলাকে বলা হয় পটাশিয়ামে ভান্ডার । আপনি যত বেশি পাকা কলা খাবেন আপনার শরীর তত বেশি পটাশিয়াম পাবে ।

প্রশ্ন = এতো পটাশিয়াম দিয়ে শরীরের কি হবে

পটাশিয়াম আপনার শরীরের হার্ট এট্যাক এবং স্ট্রোকের ঝুকি কমায় । 

২। কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে – হ্যাঁ, কিডনি আমাদের শরীরের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ন তা আমরা সকলেই কম বেশি  জানি । কলা থেকে প্রাপ্ত পটাশিয়াম শুধু হার্ট এট্যাক ও স্ট্রোকের ঝুকিই কমায় না বরং কিডনিকেও রাখে সুরক্ষিত । এটি ইউরিনে ক্যালসিয়াম জমাট হতে দেয় না । যার ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায় এবং কিডনি থাকে সুস্থ । 

৩। শরীরে শক্তি যোগায় –  আমাদের প্রতিদিনের কাজকর্ম করার জন্য প্রচুর পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয় । কলা থেকে আমরা এই শক্তির চাহিদা  কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারি । নিশ্চই আপনার মনে এখন প্রশ্ন জেগেছে যে এটি কীভাবে সম্ভব । হ্যাঁ এটি সম্ভব । কারণ কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমান শর্করা আর ফাইবার । এই জিনিসগুলি আমাদের দেহে শক্তি সরবরাহ করে । আপনি কি একটি জিনিস লক্ষ্য করেছেন?  বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই খেলা শুরু করার আগে কলা খেয়ে থাকেন কারণ তারা কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অবগত । 

৪। খাদ্য হজমে সহয়তা করে থাকে  – কলাতে রয়েছে. ফাইবার এবং প্রোবায়োটিক অলিগোস্যাকচারাইড । এগুলো খাদ্য হজমে দারূণ সহায়ক । আপনি যদি প্রতিদিন কলা খান তবে এটি আপনার শরীরে আরো পুষ্টি সঞ্চয় করতে সহায়তা করে  যা আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে সাহায্য করে থাকে ।

৫। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়  – কলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬ রয়েছে যা দেহে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে । শুধু তাই নয় এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে থাকে । যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । 

৬। বুক জ্বালা-পোড়া এবং পাকস্থলীর আলসার রোধ করে – আপনার যদি বুকে জালা পোড়ার সমস্যা থাকে তাহলে কলা হতে পারে আপনার উত্তম বন্ধু । প্রতিদিন কলা খেলে এটি আপনার বুকে জ্বালা পোড়ার সমস্যা দূর করে । অথবা আপনার যদি আলসারজনিত সমস্যা থাকে তাহলে প্রাকৃতিক নিয়ামক হিসেবে কলা হতে পারে উত্তম আশির্বাদ । কলা পাকস্থলীর PH লেভেলকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে থাকে । 

৭। ক্যন্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে  –  সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে , পাকা কলা শরীরে TNF-A প্রদান করে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী । এছাড়াও এটি শরীরে শ্বত রক্ত কণিকা তৈরীতে সহায়তা করে থাকে । যার ফলে ব্লাড ক্যান্সারের প্রবণতা অনেকাংশেই হ্রাস পায় ।

 ৮। মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে –  প্রতিদিন কলা খাওয়ার ফলে আপনার মানসিক অবসাদগ্রস্ততা অনেকাংশেই লাঘব হয় যার ফলে আপনি থাকবেন মানসিক চাপ মুক্ত । মানসিকভাবে চাপ মুক্ত থাকার কারণে ঘুমকে উপভোগ করতে পারবেন পরিপূর্ণভাবে । 

৯ । আপনার ত্বককে করুন প্রাণবন্ত – আপনি হয়তো  জেনে অবাক হবেন যে কলা আপনার ত্বককে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে । কি? ভাবছেন এটি কি আদৌ সম্ভব? হ্যাঁ, এটি সম্ভব । কলার খোসায় রয়েছে ফ্যাটযুক্ত কিছু উপাদান । এগুলো আপনার শরীরে ঘষলে ময়েশ্চরাইজারের মত উপকার পাবেন । আবার অনেকেরই মুখে রয়েছে ব্রণ । ব্রণ দূর করতে কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন । 

বোনাস টিপস – কলা কখন খাবেন ? কলা খাবার উপযুক্ত সময় কখন? 

কলা কখন খাবেন? নিশ্চই অবাক হচ্ছেন যে এটি আবার কেমন ধরণের প্রশ্ন । হ্যাঁ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই বটে । আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ফলমূল খাবার জন্য সময় উল্লেখ করে দেয়া আছে । 

অনেকেই হয়তো ভাববেন কলাই তো খাবো । একেতো চাইলে যেকোনো সময়েই খেয়ে ফেলা যায় ।  কিন্তু না । যেকোনো সময় খেলেই হবে না । কোন সময় খেলে আপনার শরীরের জন্য বেশি ভালো সেটি আপনার জানা জরুরি । 

শরীরের পুষ্টি চাহিদা এবং ভিটামিনের জন্য আমরা অনেক ধরণের ফল খেয়ে থাকি । তার মধ্যে কলা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে পরিচিত একটি ফল । প্রায় সারা বছরই কলা পাওয়া যায় । তাই বলা যায় কলা অনেকটাই সহজলভ্য আমাদের জন্য । কলার পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের জন্য উপকারী । কলার এই পুষ্টিগুণ পেতে হলে আপনি সকালে কিংবা বিকেলে খেতে পারেন । চাইলে রাত্রেও খেতে পারেন । কিন্তু এক্ষেত্রে অবশ্যই একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । কেননা কলা হচ্ছে একটি ঠান্ডা ফল । যদি আপনার সর্দি বা কাশি থেকে থাকে তাহলে রাত্রিবেলা কলা না খাওয়াটাই আপনার জন্য উত্তম হবে । 

বন্ধুরা আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করতে ভুলবেন না

Total Page Visits: 1085 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Don`t copy text!
%d bloggers like this: