পালং শাকের উপকারীতা – স্বাস্থ্য রক্ষায় পালং শাক

94 Views

শাক-সবজি পছন্দ করেন না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর । বেশিরভাগ মানুষই খাবার তালিকায় শাক-সবজি রাখতে পছন্দ করে থাকেন । আর যদি হয় সেটি শীতকাল তাহলে তো বলাই বাহুল্য, শীতকালীন শাক-সবজির বাহার দেখা যায় তখন ।

খাওয়া হয় এমন শাকের মধ্য বেশ পরিচিত একটি শাক হচ্ছে পালং শাক । শুধু খাওয়ার জন্যই নয়, পালং শাক খেলে আমাদের শরীরের নানা ধরণের উপকার হয়ে থাকে । 

পালং শাকের উপকারীতা - স্বাস্থ্য রক্ষায় পালং শাক

পালং শাক সম্পর্কে কিছু কথা – 

পালং শাক যার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Spinacia oleracea । এটি আমাদের সবারই পরিচিত । এটি জনপ্রিয় শাকগুলোর একটি যা শীতকালে প্রায় সময়ই আমাদের খাদ্য তালিকায় দেখা যায় । 

এটি একটি শীতকালিন সবজি । তাই স্বাভাবিকভাবেই এর চাষাবাদ শীতকালেই হয়ে থাকে । 

আরো পড়ুন – আপেলের স্বাস্থ্য উপকারীতা – কেনো আপেল খাবেন?

সাধারণত পালং শাকের পাতাগুলো বড় থেকে ছোট হয়ে থাকে । একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন । দেখবেন গোড়ার দিকের পাতাগুলো বড় হয়ে থাকে । গোড়া থেকে আপনি উপরের দিকে উঠলে দেখবেন পাতাগুলো ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে । উচ্চতা তেমন একটি নেই । তবে উচ্চতায় আনুমানিক ৩০ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হতে পারে । 

প্রকারভেদ

আমরা যারা  পালং শাক খেয়ে থাকি তারা হয়তো অনেকই জানি না যে ঠিক কত ধরণের পালং শাক আছে । পালং শাকের যে প্রকারভেদ আছে সেটি আবার অনেকেই হয়তো আজই প্রথম শুনেছেন ।

আপনাদের জানার সুবিধার্থে নিচে আমি কিছু পালং শাকের জাত এর নাম উল্লেখ করছি ।

পালং শাকের জাত – পুষা জয়ন্তী, কপি পালং, গ্রিন, সবুজ বাংলা ও টকপালং, জায়েন্ট, ব্যানার্জি জায়েন্ট, পুষ্প জ্যোতি । 

জেনে নিই পালং শাকের পুষ্টিগুণ-

এই শাকের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা হয়তো অনেকেই অবগত নই । অনেকেই হয়তো জানিই না যে এতে কি কি ভিটামিন বা পুষ্টিগুণ বিদ্যমান । আমরা কি জানি প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে কি পরিমাণ পুষ্টি থাকে? চলুন তাহলে জেনে নিই প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে কি পরিমাণ ও কি কি পুষ্টি বিদ্যমান থাকে ।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে – 

পালং শাকের উপকারীতা?
পালং শাকের উপকারীতা?


পালং শাকের উপকারীতা – পালং শাক খেলে কী কী উপকার হয়?

ভিটামিন বি সমৃদ্ধ পালং শাক আমাদের শরীরের ভিটামিন বি এর চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা পালন করে থাকে । শুধু ভিটামিন বি-ই নয়, পালং শাকে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট । পালং শাক আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী তা এই আর্টিকেলে বেশ কয়েকবার উল্লেখ করা হয়েছে । চলুন দেখে নিই পালং শাকের উপকারীতা কী কী – 

১. রক্তচাপ কমাতে পালং শাক বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যাদের রক্তচাপ রয়েছে তারা পালং শাক আহার করতে পারেন।  কারণ এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আপনার শরীরের রক্তচাপ কমাতে কাজ করবে। 

২. শরীরকে রোগ প্রতিরোধের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পালং শাক হতে পারে অন্যতম নিয়ামক। এছাড়াও পালং শাকে থাকা ভিটামিন এ শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে । 

৩. আমরা হয়তো অনেকেই জানি যে ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যন্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে । শুধু ক্যান্সারই নয় বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগের বিরুদ্ধেও এটি কাজ করে থাকে ।  এছাড়াও অনেকেরই শরীরে ব্যাথাজনিত সমস্যার আনাগোনা লেগেই থাকে । পালং শাকে রয়েছে ব্যাথার মোক্ষম অস্ত্র ক্যারটিনয়েড যা শরীরের ব্যাথার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে । 

৪. চোখের ছানি পড়া রোধেও পালং শাক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে । 

৫. হৃদযন্ত্র আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ।  হৃদযন্ত্রের সুরক্ষার অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে ফলিক এসিড । পালং শাকে হৃদযন্ত্র সুরক্ষাকারি এই ফলিক এসিড বিদ্যমান থাকে । 

৬. যারা পালং শাক নিয়মিত খেয়ে থাকেন তারা পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত থাকেন ।

পালং শাকের উপকারীতা - স্বাস্থ্য রক্ষায় পালং শাক

পালং শাকের জুস –  ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষায় পালং শাক 

শিরোনাম দেখে হয়তো একটু অবাকই হচ্ছেন । হ্যাঁ অবাক করার মতো হলেও সত্যি যে শাকের পাশাপাশি পালং শাকের জুস আমাদের আমাদের ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশ গুরত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । তাই শাক হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি একে জুস হিসেবেও আমরা ব্যবহার করতে পারি । ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষায় পালং শাকের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো –

১. চুলের বৃদ্ধি এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে পালং শাকের জুস খাওয়া যেতে পারে । কেননা পালং শাকে চুলের বৃদ্ধি এবং চুলের গোড়া শক্ত রাখার দরকারি উপাদান বিদ্যমান । এছাড়াও চুলের রুক্ষতা রোধে পালং শাক হতে অয়ারে আপনার নিকটতম অস্ত্র । 

২. তারুণ্যতা ধরে রাখতে পালং শাক হতে পারে আপনার অন্যতম উপাদান । পালং শাকে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের বার্ধক্যের ছাপ সরিয়ে তারুণ্যতা ফুটিয়ে তুলে । যার ফলে আপনি হয়ে উঠবেন আরো প্রাণবন্ত । 

৩. ত্বকের নিস্তেজভাব দূর করতে পালং শাক দারুণ কাজ করে থাকে । এছাড়াও সুন্দর ত্বক পেতে পালং শাক ব্যবহার করতে পারেন । অন্যান্য সবজির সাথে পালং শাককে মিশিয়ে জুস হিসেবে খেতে পারেন । 

৪. যাদের ব্রণজনিত সমস্যা আছে তারা পালং শাক ব্যবহার করতে পারেন । যদি পেস্ট করে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আরো ভালো হয় । পেস্টের জন্য আপনার একটি ব্লেন্ডার, পানি আর পালং শাকের দরকার পড়বে ।

পানি এবং পরিমাণমতো পালং শাক নিয়ে ব্লেন্ডারে দিন । তারপর এটিকে ব্লেন্ড করুন । খেয়াল রাখবেন যাতে এটি পেস্টের মতো হয় । পেস্ট হয়ে গেলে মাস্কের মতো এটিকে মুখে ব্যবহার করুন । ১৮-২০মিনিট রাখার পর মুখ ধুয়ে ফেলুন । 

Total Page Visits: 2590 - Today Page Visits: 12

Leave a Reply

Don`t copy text!
%d bloggers like this: