আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা – কেনো আপেল খাবেন ?

127 Views

আপেল , আমাদের সবারই পরিচিত এবং অনেক প্রিয় একটি ফল । আপেল অপছন্দ করেন এমন মানুষ খুব কমই আছেন ।  আবার অনেকেই আছেন এমন যাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আপেল থাকা অনিবার্য । কেউ বা সকালে আবার কেউ বা দিনের অন্য সময় আপেল খেয়ে থাকেন । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই কি অবগত ? যারা আপেল খেয়ে থাকেন তারা সবাই কি আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানেন? কেনো আপেল খাবেন – এই প্রশ্নের উত্তর কি আমরা সবাই দিতে পারবো ? 

স্বাগতম বন্ধুরা, আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো । সেই সাথে বোনাস টিপস তো থাকছেই । তো চলুন কথা বাড়িয়ে চলে যাই মূল আলোচনায় – 

আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা - কেনো আপেল খাবেন ?

আপেল

আপেল পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি স্বাস্থ্যকর ফল । খেতে বরাবরই মিষ্টি হওয়ার কারণে অনেকেই এটিকে পছন্দের ফলের তালিকায় রাখেন । পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই আপেলের চাষ হয়ে থাকে । আমরা সবাই কম বেশি আপেল খেয়ে থাকি । কিন্তু আমাদের মধ্য অনেকেই হয়তো জানি না যে পুরো পৃথিবীতে প্রায় ৭৫০০টির বেশি আপেলের প্রজাতি রয়েছে । 

আপেলের পুষ্টিগুণ– 

আপেল  সম্পর্কে একটি মজার প্রবাদ রয়েছে । 

An Apple a Day, Keeps the Doctor Away” । দারুণ না? প্রতিদিন একটি আপেল আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । কারণ আপেলে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদান যা শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করে থাকে । এই অনুচ্ছেদে আমরা আপেলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নিবো –

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে –

খোসাসহ আপেলের খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে – আপেলে প্রায় ৮০% পানি থাকে যা শরীরের জন্য অতিব দরকারি।

খাদ্যশক্তি—– ৫২ কিলোক্যালরি

শর্করা—– ১৩.৮১ গ্রাম

চিনি—– ১০.৩৯ গ্রাম

খাদ্যআঁশ—– ২.৪ গ্রাম

চর্বি—– ০.১৭ গ্রাম

আমিষ—– ০.২৬ গ্রাম

জলীয় অংশ—– ৮৫.৫৬ গ্রাম

ভিটামিন এ—– ৩ আইইউবিটা

ক্যারোটিন—– ২৭ আইইউ

লুটেইন—– ২৯ আইইউ

থায়ামিন—– ০.০১৭ মিলিগ্রাম

রিবোফ্লেভিন—– ০.০২৬ মিলিগ্রাম

নিয়াসিন—– ০.০৯১ মিলিগ্রাম

প্যানটোথেনিক অ্যাসিড—– ০.০৬১ মিলিগ্রাম

ফোলেট—– ৩ আইইউ

ভি. সি —– ৪.৬ মিলিগ্রাম

ভিটামিন ই —– ০.১৮ মিলিগ্রাম

ভিটামিন কে —– ২.২ আইইউ

ক্যালসিয়াম—– ৬ মিলিগ্রাম

আয়রন—– ০.১২ মিলিগ্রাম

ম্যাগনেসিয়াম—– ৫ মিলিগ্রাম

ম্যাংগানিজ—– ০.০৩৫ মিলিগ্রাম

ফসফরাস—– ১১ মিলিগ্রাম

পটাশিয়াম—– ১০৭ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম—– ১ মিলিগ্রাম

জিংক—– ০.০৪ মিলিগ্রাম

ফ্লোরাইড—– ৩.৩ আইইউ

কোন ধরণের আপেল খাবেন ?

আপেল কেনার সময় একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন বাজারে সাধারণত দুই ধরণের আপেল পাওয়া যায় । একটি হচ্ছে লাল আর অন্যটি হচ্ছে সবুজ । আপনি কি জানেন কোন রঙয়ের আপেল স্বাস্থ্যর জন্য বেশি উপকারী ?  

লাল রঙয়ের আপেলের চাইতে সবুজ রঙয়ের আপেল আমাদের শরীরের জন্য বেশি উপকারী । কেননা সবুজ আপেলে লাল আপেলের চাইতে বেশি পুষ্টিগুণ বিদ্যমান । আরেকটি বিষয় এখানে লক্ষ্যণীয় স্বাদের দিক দিয়ে লাল আপেল সবুজ আপেলের চাইতে অনেকটাই এগিয়ে আছে। কিন্তু আপনি যেহেতু একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ তাই পুষ্টিগত দিক বিবেচনা করে খাবার জন্য নিঃসন্দেহে সবুজ আপেলকে বেছে নিতে পারেন। 

সবুজ আপেলের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা - প্রতিদিন কেনো সবুজ আপেল খাবেন ?

এই অনুচ্ছেদে আমরা জেনে নিবো সবুজ আপেলের গুণাগুন এবং এটি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে – 

১. সবুজ আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা শরীররকে কোষ্ঠকাঠিন্যতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে থাকে

২. হাড় গঠনের উপাদানসমূহ যেমন – আয়রন, কপার, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজম পটাশিয়াম ইত্যাদি সবুজ আপেলে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যামান থাকে । তাই হাড় গঠনের ক্ষেত্রে সবুজ আপেল খাবার উপকারিতা নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য ।

৩. হজমের সমস্যা আছে আপনার ??? যাদের আছে হজমের সমস্যা সবুজ আপেল তাদের জন্য দারুণ একটি উপশমকারী ফল হতে পারে । সবুজ আপেলে যে আঁশ থাকে সেটি যে শুধু শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করে তাই নয় বরং এই আঁশ হজমের ক্ষেত্রেও সাহায্য করে থাকে । যার ফলে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রেও সবুজ আপেলের আঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । 

৪. শরীরে যদি ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে কি কি হতে পারে বলুন তো ? নিশ্চই এটি শরীরের জন্য ভালো কোনো দিক নয়, তাই না? সবুজ আপেল শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের পরিমাণ কমানোর জন্য দারূন কার্যকরি ভূমিকা পালন করে । 

৫. সবুজ আপেলের উপাদান শরীরের থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে ।

৬. সবুজ আপেলের মধ্য বিদ্যমান ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে । যার ফলে শরীর বিভিন্ন ধরণের রোগ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায় । 

৭. শুধু হাড় কিংবা কোলেস্টরেল নয় , সবুজ আপেল শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ লিভারকে সুস্থ রাখে । এর উয়াপাদান গুলো লিভারকে বিভিন্ন ধরণের সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে । 

পাঠক বন্ধুরা আমরা এতক্ষণ পর্যন্ত জানলাম আপেলের স্বাস্থ্য উপকারীতা এবং আপেলের গুণাগুন সম্পর্কে । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আপেল খাবো কখন? যেকোনো সময় খেলেই হবে? নাকি আপেল খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে ?

বোনাস টিপস => আপেল কখন খাবেন?

আমরা যদি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের কথা বিবেচনা করি তাহলে সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে যে প্রতিটি ফল খাবার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে । কিন্তু আপেলও তো একটি ফল । তাহলে এই ফল খাবো কখন ? এই অনুচ্ছেদে আমরা সে ব্যপারেই আলোচনা করবো । 

আমাদের মাঝে অনেকেই দেরি করে ঘুমাতে যান, অনেকে দেরি করে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেন, আবার অনেকেরই রয়েছে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব । এসব দিক বিবেচনা করলে সকালে ঘুম থেকে উঠে আপেল খাওয়া ভালো । এছাড়াও পুষ্টিবিজ্ঞানিরা সকালে আপেল খাওয়ার ব্যপারকে সমর্থন করেন । 

কেননা অন্যান্য সময়ের চাইতে সকাল বেলা সকাল বেলা আপেল খেলে এটি শরীরের অন্ত্রের কার্যকলাপকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । 

তাই সবদিক বিবেচনা করে সকালে আপেল খাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো সময় বলা যায় ।

Total Page Visits: 439 - Today Page Visits: 4

2 thoughts on “আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা – কেনো আপেল খাবেন ?

Leave a Reply

Don`t copy text!
%d bloggers like this: